শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

মোবাইল কোর্টে নয়, শিশুর অপরাধের বিচার হবে শিশু আদালতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শিশুদের সাজা ও আটক রাখা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুকে সাজা দেয়া সংবিধান পরিপন্থী এবং শিশু আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই শিশুর বিরুদ্ধে যে কোনও অভিযোগের বিচার শুধু শিশু আদালতেই হতে হবে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদুল হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ অভিমত দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার এ রায় প্রকাশ করা হয়। ৩১ পৃষ্ঠার রায়ে ১২১টি শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দেয়া সাজাও বাতিল করা হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত শিশুদেরকে দেয়া দণ্ড এমনভাবে বাতিল হবে, যেন তাদের বিরুদ্ধে কখনও কোনও মামলা, গ্রেপ্তার বা কোনও দণ্ড দেয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এসব শিশুর জীবনে দণ্ডের কোনো প্রভাব পড়বে না। আইনের চোখে তারা নিষ্পাপ।

মোবাইল কোর্ট কর্তৃক সাজা দেয়া ২৩টি শিশুর উদাহরণ তুলে ধরে হাইকোর্ট রায়ে বলেছে, মাত্র ৩২ মিনিটে দুটি ঘটনাস্থলে একই ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২৩ শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ ও তাদের দণ্ড দেয়াসহ বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব। এটি শুধুই বিবেক বর্জিত নয়, শিশুদের মৌলিক অধিকারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে দেশের বিচার বিভাগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠবে। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের বিচার করা এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।

হাইকোর্ট বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত আমাদের স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থার সমান্তরাল বিচার ব্যবস্থা হয়ে গেছে। যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। রায়ে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার বিচার হবে সংশ্লিষ্ট বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন অন্তত অতিরিক্ত জেলা জজ পদ মর্যাদার বিচারক। কিন্তু মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হলেন নির্বাহী হাকিম বা মহানগর হাকিম। সুতরাং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কোনোভাবেই বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এটি করলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

মোবাইল কোর্ট কর্তৃক দেয়া দণ্ডের প্রেক্ষিতে টঙ্গী ও যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি শিশুদের নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের

নজরে আনেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত রুল জারির পাশাপাশি শিশুদের জামিনে মুক্তির আদেশ দেয়। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত ১১ মার্চ হাইকোর্ট এ রায় দেয়। পরদিন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয়।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com